কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১২:৫১ PM
কন্টেন্ট: গল্প নয় সত্যি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়
পাংশা, রাজবাড়ী।
www.fisheries.pangsha.rajbari.gov.bd
জনাব মো: রফিকুল ইসলাম এর সফলতার গল্প
রফিকুল ইসলাম, পিতা-মৃত ওমেদ আলী, মাতা- সালেহা বেগম, গ্রাম- তারাপুর, ডাকঘর-বাহাদুরপুর, ইউনিয়ন-বাহাদুরপুর, উপজেলা- পাংশা , জেলা- রাজবাড়ী একজন পদ্মা নদীর ইলিশ জেলে। নদীর জোয়ার ভাটার মতোই তাদের জীবন। তিন ছেলে ও স্ত্রীসহ ৫ সদস্যের পরিবার। হতদরিদ্র মাঝির মতো টানা পোড়েনের সংসার তার। তার নিজের জমি বলতে শুধুমাত্র বসবাসের 2 শতাংশ বসতভিটা ছাড়া মাঠে চাষযোগ্য কোন জমি নাই। তিনি এক প্রকার বাধ্য হয়ে কোনো উপায় না থাকায় পদ্মা নদীতে (২০০4) সাল থেকে মাছ ধরা শুরু করেন। মাছ ধরতে গেলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে চলতে হয়। রাতভর জেগে মাছ ধরে সকালে বাজারে বা আড়তে বিক্রি করতে হয়। কোন দিন ভাল মাছ পাওয়া যায়, কোনদিন একেবারেই মাছ পাওয়া যায় না। আবার অক্টোবর মাসে মা ইলিশ সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞার কারনে ২২ দিন নদীতে নামা নিষেধ থাকে। এ সময় সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। যদিও মৎস্য অফিস থেকে চাল দিয়ে থাকে। কিন্তু ২৫ কেজি চাল দিয়ে ভাতের চাহিদা নিশ্চিত হলেও সব প্রয়োজন চাহিদা পূরণ হয় না। আবার নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা ধরা নিষেধ থাকে যদিও মৎস্য অধিদপ্তর থেকে এই সময় পরিবার প্রতি ৪০ কেজি হারে ফেব্রুয়ারি-মার্চ ও এপ্রিল- মে চক্রে মোট তারা ৮০ কেজি করে চাল পায়। আবার অভিযান শেষ হওয়ার পরে পানি কমে যাওয়ার পরে ৩ মাস নদীতে মাছ তেমন থাকেনা। যার ফলে তারা মানবাতর জীবনযাপন করে। এটাই তাদের জীবন সংগ্রামের অবস্থা। এমন অসহায় পরিস্থিততে তাদের পাশে দাড়িয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। জেলেদের ইলিশ তথা নদীর মাছের উপর চাপ কমাতে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরীর জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান উপকরণ বিতরণে এগিয়ে আসে মৎস্য অধিদপ্তর। যখন মৎস্য অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসয়ংস্থানের জন্য রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে সুফলভোগীর নামের তালিকা চাওয়া হয় তখন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রফিকুল ইসলাম নামসহ আরো কিছু নাম পাঠানো হয়। নামের সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই করা হয় উপজেলা কমিটির মাধ্যমে। যাচাই-বাছাইয়ে রফিকুল ইসলাম বিকল্প কর্মসংস্থান উপকরণ পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। । পরে প্রকল্প সদর দপ্তর হতে বরাদ্দ প্রাপ্তির পর মাননীয় এমপি মহোদয়েরে উপস্থিতিতে একটি বকনা বাছুর তুলে দেয়া হয় ২০২2 সালের 14 নভেম্বর। তিনি প্রকল্পের মাধ্যমে গরু পালনের উপর তিন দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ নেন। এরপর বকনা বাছুর টি পালতে থাকেন। সেটি বড় হয়। এরপর সেটি বর্তমান 2 মাসের গর্ভবতী হয়েছে। তিনি আশা করছেন বকনা বাছুর হবে বা এড়ে বাছুর হবে। গরুটির বাছুর হলে তিনি বলেন দুধ বিক্রি করে তিনি তার সংসারের জন্য বাড়তি আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। বাছুরটি বড় হলে সেই বাছুরটি তিনি বিক্রি করে একটি গাভী কিনবেন যার মাধ্যমে তিনি একটি দুদ্ধ উৎপাদন খামার স্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন। তিনি জানান প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫০০০ টাকার বকনা বাছুর পেয়েছিলেন। এখন গাভী হিসাবে বাচ্চা দেওযার সম্ভবতার কারণে তার গরুটির এর মূল্য বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রায় 8০০০০ টাকা। এক বছর পরে বাছুর সহ তার গাভিটির মূল্য হবে প্রায় আনুমানিক ১3০০০০ টাকা। তিনি আশা করেন গরু পাওয়ার ফলে তাদের জেলে জীবনের গ্লানি অনেকটাই লাঘব হয়েছে এবং তারা আগের চেয়ে উন্নত জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখছেন।
মতামত:
মূলত মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর কর্তক বাস্তবায়নাধীন ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প থেকে অনুদান দেয়ার ফলে এবং গরু পালন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার ফলে এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি আরও জানান জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান অব্যাহত থাকলে নদীর মাছের উপর চাপ কমবে এবং নদীতে ইলিশ সহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট স্থির চিত্র
|
|
রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বিকল্প কর্মসংস্থান উপকরণ বকনা বাছুর পরিদর্শন করছেন জনাব সাঈদ আহমেদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পাংশা, রাজবাড়ী। সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ক্ষেত্র সহকারী জনাব মো: রাশেদুজ্জামান, পাংশা, রাজবাড়ী।
|
| | রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বিকল্প কর্মসংস্থান উপকরণ বকনা বাছুর পরিদর্শন করছেন জনাব সাঈদ আহমেদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পাংশা, রাজবাড়ী। সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ক্ষেত্র সহকারী জনাব মো: রাশেদুজ্জামান, পাংশা, রাজবাড়ী। |